Cherreads

অদেখা ভালোবাসা

MD_Mahabub_Alom
7
chs / week
The average realized release rate over the past 30 days is 7 chs / week.
--
NOT RATINGS
103
Views
Table of contents
VIEW MORE

Chapter 1 - Unnamed

অদেখা ভালোবাসা

ঢাকার এক শান্ত গলির ভেতরে ছোট্ট একটা বাসায় থাকত মেহরিন। খুব সাধারণ একটা মেয়ে—না খুব বেশি বন্ধু, না খুব বেশি চাওয়া-পাওয়া। তার পৃথিবীটা ছোট, কিন্তু তার অনুভূতিগুলো ছিল অসীম বড়।

মেহরিনের জীবনে একটা অদ্ভুত অভ্যাস ছিল—প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই সে ফোনটা হাতে নিত, আর সবার আগে খুঁজত একজন মানুষকে।

একজন কোরিয়ান ছেলে—জেওন জাংকুক (Jungkook)।

সে ছিল একজন জনপ্রিয় গায়ক, হাজার হাজার মানুষের ভালোবাসার কেন্দ্র। কিন্তু মেহরিনের কাছে সে শুধু একজন সেলিব্রিটি ছিল না… সে ছিল তার নিজের একান্ত মানুষ, তার নীরব অনুভূতির ঠিকানা।

প্রথম ভালোবাসা

মেহরিন প্রথম জাংকুককে দেখে একদিন ইউটিউবে। একটা গান চলছিল…

তার হাসি, তার চোখ, তার কণ্ঠ—সবকিছু মিলিয়ে যেন মেহরিনের ভেতরে কিছু একটা বদলে যায়।

সেদিন থেকেই শুরু।

প্রথমে ভালো লাগা…

তারপর অভ্যাস…

তারপর একসময়—ভালোবাসা।

সে বুঝতেই পারেনি, কখন একজন অচেনা মানুষ তার প্রতিটা দিনের অংশ হয়ে গেছে।

নীরব সম্পর্ক

মেহরিন জানত, এই সম্পর্কটা একদম একতরফা।

জাংকুক তাকে চেনে না… চিনবেও না।

তবুও সে প্রতিদিন তার সাথে কথা বলত—ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে।

"আজকে আমি খুব ক্লান্ত ছিলাম… কিন্তু তোমার গান শুনে ভালো লাগছে…"

"তুমি কি জানো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি?"

তার কথাগুলো কখনো জাংকুক শুনত না।

কিন্তু মেহরিন থামত না।

ডায়েরির পাতা

তার একটা ডায়েরি ছিল।

সাদা পাতাগুলো ভরে ছিল একটাই নামে—জাংকুক।

একটা পাতায় লেখা ছিল—

"তুমি হয়তো কোনোদিন জানবে না, কেউ একজন দূর থেকে তোমার জন্য দোয়া করে…"

আরেকটা পাতায়—

"আমি জানি, তুমি আমার না… তবুও কেন জানি মনে হয়, তুমি আমারই।"

ডায়েরিটা ছিল তার ভালোবাসার একমাত্র সাক্ষী।

বন্ধুর প্রশ্ন

একদিন তার বন্ধু সাদিয়া জিজ্ঞেস করল,

"তুই কি সত্যি ওকে ভালোবাসিস?"

মেহরিন একটু চুপ করে থেকে বলল,

"হ্যাঁ…"

"কিন্তু সে তো তোকে চেনে না।"

মেহরিন হালকা হেসে বলল,

"সব ভালোবাসা কি চিনে নিতে হয়?"

"তুই কি আশা করিস, কোনোদিন দেখা হবে?"

"না… আমি জানি, কখনোই না।"

তার কণ্ঠে কষ্ট ছিল, কিন্তু তবুও শান্তি ছিল।

ভালোবাসার গভীরতা

সময় যেতে থাকে।

মেহরিনের জীবনে অনেক কিছু বদলায়—ক্লাস, পরীক্ষা, পরিবারের চাপ…

কিন্তু একটা জিনিস বদলায় না—তার ভালোবাসা।

জাংকুকের নতুন গান বের হলে সে রাত জেগে শুনত।

ভিডিও দেখত… হাসত… আবার কান্নাও করত।

কারণ সে জানত—

এই হাসিটা তার জন্য না।

একটা অসুস্থ রাত

একদিন রাতে মেহরিন খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে।

জ্বর, শরীর কাঁপছে… কথা বলার শক্তিও নেই।

তবুও সে ফোনটা হাতে নেয়।

স্ক্রিনে জাংকুকের একটা ভিডিও চালায়।

জাংকুক হাসছে… গান গাইছে।

মেহরিন চোখ বন্ধ করে আস্তে করে বলে—

"একবার… শুধু একবার যদি সামনে দেখতে পেতাম…"

তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।

সে জানত—

এই ইচ্ছেটা কোনোদিন পূরণ হবে না।

অসম্ভবকে ভালোবাসা

মেহরিন কখনো স্বপ্ন দেখত না যে সে জাংকুককে পাবে।

সে শুধু চেয়েছিল—দূর থেকে ভালোবাসতে।

কারণ সে বুঝে গিয়েছিল—

ভালোবাসা মানে সবসময় কাছে পাওয়া না, কখনো কখনো দূর থেকেও ভালোবাসা যায়।

সময় বদলায়

বছর কেটে যায়।

মেহরিন বড় হয়ে যায়।

জীবন তাকে ব্যস্ত করে ফেলে—দায়িত্ব, পরিবার, বাস্তবতা…

তবুও এক কোণে থেকে যায় সেই পুরোনো অনুভূতিটা।

একদিন সে তার পুরোনো ডায়েরিটা বের করে।

পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে।

ভেতরে এখনও সেই ছবি—জাংকুকের।

শেষ অনুভূতি

মেহরিন ছবিটার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলে—

"তুমি কখনো জানবে না…

কেউ একজন ছিল, যে তোমাকে নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছিল…"

তার ঠোঁটে হালকা হাসি।

চোখে জমে থাকা পানি।

সে জানে—

এই গল্পের কোনো মিলন নেই।

তবুও এটা একটা সম্পূর্ণ গল্প।

কারণ এখানে ভালোবাসা ছিল—

নিঃস্বার্থ, নিরব, আর সত্যিকারের।

শেষ কথা

এই গল্পটা কোনো পরিণতির না…

এটা অনুভূতির গল্প।

একটা মেয়ের গল্প—

যে জানত, সে কখনোই তার প্রিয় মানুষটাকে কাছে পাবে না,

তবুও ভালোবেসেছিল।

কারণ—

সব ভালোবাসার শেষটা একসাথে হওয়া না… কিছু ভালোবাসা শুধু হৃদয়ে বেঁচে থাকে।