রাতটা নিধির কাছে যেন শেষ রাতের মতো লাগছিল। ঘরের আলো নিভিয়ে সে চুপচাপ বসে ছিল, চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল অবিরাম। অনেক ভেবেচিন্তে সে একটা চিঠি লিখতে শুরু করল—
"মা,
আমি এভাবে পালাতে চাইনি। কিন্তু তোমরা আমাকে খুব জোর করছিলে। আমি ওই ছেলেটাকে বিয়ে করতে চাইনি, তবুও তোমরা আমার কথা শোনোনি। এমন তো নয় যে আমি তোমাদের প্রণবের ব্যাপারে জানাইনি। সব জেনে বুঝেও তোমরা আমার জীবনটা অন্যদিকে নিয়ে যেতে চাইছিলে।
আমাকে আর খোঁজার চেষ্টা করো না। আমার বয়স এখন ২২—আমি নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
—তোমার নিধি"
চিঠিটা বালিশের নিচে রেখে নিধি ধীরে ধীরে চোখ মুছল।
ভোরবেলা, আকাশ তখনও পুরোপুরি আলোয় ভরেনি। নিধি বাড়ির সবাইকে বলল—
"আমি একটু হাঁটতে যাচ্ছি…"
কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে দরজা পেরিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেল। বুকের ভেতর ধুকপুকানি, চোখে ভয় আর অজানা ভবিষ্যতের চিন্তা—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি।
রাস্তার একটু দূরে প্রণব গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল। নিধিকে দেখেই সে দ্রুত দরজা খুলে দিল। দুজনের চোখে তখন একসাথে ভয়, উত্তেজনা আর ভালোবাসা।
এক মুহূর্ত দেরি না করে নিধি গাড়িতে উঠে পড়ল। তারপর তারা সোজা রওনা দিল মুর্শিদাবাদের পথে—পিছনে ফেলে এল সবকিছু, পরিবার, স্মৃতি, আর একরাশ কষ্ট।
কিছুক্ষণ পরেই নিধির মায়ের ফোন এল। ফোনটা কাঁপছিল নিধির হাতে।
"কোথায় আছিস তুই?" — কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন মা।
নিধি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল—
"মা… আমি বিয়ে করে নিয়েছি… তারাপীঠে…"
ওপাশে হঠাৎ নিস্তব্ধতা। তারপর কান্নার শব্দ—
মা ভেঙে পড়লেন, কেঁদে কেঁদে প্রায় অজ্ঞান হয়ে গেলেন।
গাড়ির ভেতরে নিধির চোখ দিয়েও জল গড়িয়ে পড়ছিল। কিন্তু এবার আর ফিরে যাওয়ার পথ নেই। সে নিজের ভালোবাসার জন্য সবকিছু ছেড়ে এসেছে।
এইভাবেই তাদের নতুন জীবনের শুরু হলো—কিন্তু এই সিদ্ধান্ত তাদের জীবনে কী ফল বয়ে আনবে, তা তখনও অজানা ছিল
Next
